মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর, ঝুঁকি কমাবেন কীভাবে?

খাবার, পানি ও বাতাস—তিন পথেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসছে মানুষ। বোতলজাত পানি, লবণ, সামুদ্রিক খাবার, চা, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে কণাটি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা কিংবা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলেও কণা নিঃসরণ বাড়তে পারে। সিনথেটিক কাপড় ও গৃহস্থালির ধুলা থেকে ছড়ানো সূক্ষ্ম তন্তু শ্বাসের সঙ্গেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
প্রতি বছর একজন মানুষ গড়ে পাঁচ গ্রাম প্লাস্টিক খান। এটা একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমান। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে শুধু কর্ণফুলী নদীর মাছ খেয়েই একজন মানুষ বছরে সাত হাজারের বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন।
পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে সাধারণভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। আরও ক্ষুদ্র কণা পরিচিত ন্যানোপ্লাস্টিক হিসেবে। ফেলে দেওয়া বোতল, পলিথিন, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য প্লাস্টিক রোদ, তাপ এবং ঘর্ষণে ধীরে ধীরে ভেঙে এসব কণায় পরিণত হয়। পোড়ানো প্লাস্টিক থেকেও বিষাক্ত ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়াতে পারে।
খাবার, পানি ও বাতাস—তিন পথেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসছে মানুষ। বোতলজাত পানি, লবণ, সামুদ্রিক খাবার, চা, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে কণাটি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা কিংবা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলেও কণা নিঃসরণ বাড়তে পারে। সিনথেটিক কাপড় ও গৃহস্থালির ধুলা থেকে ছড়ানো সূক্ষ্ম তন্তু শ্বাসের সঙ্গেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
ঢাকার আশপাশের জলাশয় থেকে সংগৃহীত ৪৮টি মাছ নিয়ে করা একটি গবেষণায় ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। তবে সীমিত নমুনার এই ফলকে দেশের সব মাছের চিত্র বলাও ঠিক হবে না।
কর্ণফুলী নদীর মাছ ও চিংড়ি নিয়ে আরেক গবেষণায় বাংলাদেশের গড় মাছ খাওয়ার হার ধরে একজন মানুষের সম্ভাব্য বার্ষিক মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ ৪ হাজার ১৫ থেকে ৭ হাজার ৬৬৫ কণা হিসাব করা হয়েছে।
সম্প্রতি পরিবেশবাদী সংগঠন এসডোর পরীক্ষায় বাংলাদেশের বাজার থেকে নেওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি নমুনার চারটিতেও মিলেছে এই কণা ।
মানুষের রক্ত, ফুসফুস, গর্ভফুল ও মস্তিষ্কের নমুনায় মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৪ সালের ইতালীয় এক গবেষণায় ক্যারোটিড ধমনির প্লাকে এসব কণা থাকা রোগীদের মধ্যে প্রায় তিন বছরে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মৃত্যুর সম্মিলিত হার বেশি দেখা যায়। একইভাবে, ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় ডিমেনশিয়া রোগীদের মস্তিষ্কে তুলনামূলক বেশি কণা পাওয়া যায়।
পুরোপুরি মুক্তি নেই, কিন্তু ক্ষতি কমানো যায়। প্লাস্টিকের বোতলের বদলে কাচ বা স্টিলের বোতল ব্যবহার, প্লাস্টিকের পাত্রে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম না করা, পলিথিনে মোড়ানো গরম খাবার এড়িয়ে চলা, প্লাস্টিক যেখানে সেখানে না ফেলা — ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমাতে পারে।
দিক বার্তা / এমআরইউএস / ২৮ জুলাই ২০২৬
