সফটওয়্যার ও আইটি সেবায় বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস: রপ্তানি আয় ছাড়ালো ১.৫ বিলিয়ন ডলার

বিশ্ববাজারে দেশীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড, ক্লাউড সলিউশন ও তরুণ ডেভেলপারদের অভূতপূর্ব সাফল্য। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি, আইটি অবকাঠামো সেবা এবং তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিরলস পরিশ্রমে চলতি অর্থবছরে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি আয় সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর সর্বশেষ তথ্যে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
এইচ২: আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় সফটওয়্যার এজেন্সিগুলোর জয়যাত্রা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি ফ্রন্টএন্ড, ব্যাকএন্ড আর্কিটেকচার, কাস্টম এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। দেশীয় অনেক উদীয়মান প্রযুক্তি সংস্থা এখন বৈশ্বিক ক্লায়েন্টদের সাইবার সিকিউরিটি, ওয়েব সলিউশন এবং ফিনটেক সাপোর্ট প্রদান করছে।
এইচ২: নতুন কর্মসংস্থান ও আইটি পার্কের ভূমিকা
দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা তরুণ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ডেভেলপাররা সরাসরি এই খাতের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সাথে হাই-টেক পার্কগুলোতে লজিস্টিক সহায়তা ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার বাইরে থেকে পরিচালিত সফটওয়্যার স্টার্টআপগুলোও আন্তর্জাতিক কাজ পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো:
১. আন্তর্জাতিক মানের মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্কে তরুণদের পারদর্শিতা।
২. সরাসরি গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের সাথে নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ও রেমিট্যান্স প্রবাহের সুব্যবস্থা।
৩. কম খরচে বিশ্বমানের আইটি সাপোর্ট ও সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন প্রদান।
এইচ২: আগামী দিনের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি নির্ভর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করতে সরকার ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে নানামুখী কর ছাড় ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। আইটি খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সঠিক নীতি সহায়তা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের আইটি সেবার রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
