Dik Barta

ইয়াবা উদ্ধার নাকি ফাঁসানো? আসলে কী ঘটেছিল সুবর্ণচরে?

রহিম সোহাগপ্রতিবেদক
৮ আগস্ট, ২০২৬১৯ পঠিত মিনিট পড়া
জয়নাল আবেদীন
জয়নাল আবেদীন

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাংলা বাজারে জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি ‘মবের’ শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাংলা বাজার এলাকায় জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জয়নাল আবেদীন কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তার বড় ভাই হানিফ চৌধুরী চর জুবিলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জয়নালকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জয়নাল আবেদীন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং এলাকায় ভদ্র ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে আটকের সময় কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকে ঘটনাটিকে ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একজন স্থানীয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, জয়নাল আবেদীন রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

আরেকজন মন্তব্যকারী দাবি করেন, আটকের আগে জয়নালকে মারধর করা হয়েছে এবং পরে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, প্রকৃত ঘটনা জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে আরও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, কেউ অপরাধ করে থাকলেও তাকে মারধর বা অপমান করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরেকজন মন্তব্যকারী বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলে তার বিচার আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেই হওয়া উচিত। অন্যদিকে আরেকজন ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীনের মুখে ও দাড়িতে হাত দেওয়া এবং তাকে মারধরের অভিযোগ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ বা জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে আনা মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি সত্যিই ইয়াবা বহন করছিলেন কি না, তাকে আটকের প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল কি না এবং তার ওপর হামলার অভিযোগ সত্য কি না? এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। একইভাবে তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ফাঁসানো হয়েছে, এমন দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জয়নাল আবেদীনের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

দিক বার্তা / এমআরইউএস / ০৮ আগস্ট ২০২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন: