চোখের ‘নীরব ঘাতক’ থেকে বাঁচতে বালিশ ছাড়া ঘুম? গবেষণায় নতুন তথ্য

ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ ব্যবহারের ধরন চোখের ভেতরের চাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘাড় সোজা রেখে শোয়া চোখের চাপ কম রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক গবেষণা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
ঘুমানোর সময় শরীরের অবস্থান চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে British Journal of Ophthalmology-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায়। গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মাথার নিচে অতিরিক্ত উঁচু বালিশ ব্যবহার না করে ঘাড় ও মাথা তুলনামূলকভাবে সমান অবস্থানে রেখে শুলে কিছু গ্লুকোমা রোগীর চোখের ভেতরের চাপ বা ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার (IOP) কম থাকতে পারে।
চোখের ভেতরের চাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অপটিক নার্ভ বা দৃষ্টিস্নায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি গ্লুকোমার মতো চোখের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গবেষকদের ধারণা, এ ক্ষেত্রে ঘাড়ের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাথার নিচে একাধিক বা অতিরিক্ত উঁচু বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় বাঁকতে পারে। এতে ঘাড়ের শিরায় চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চোখের ভেতরের তরল নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে চোখের ভেতরের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই বসা বা দাঁড়ানো অবস্থার তুলনায় শুয়ে পড়লে চোখের ভেতরের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তাই ঘুমানোর সময় মাথা ও ঘাড়ের অবস্থানও চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় ১৪৪ জন গ্লুকোমা রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ৬৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে সমতল অবস্থায় শোয়ার তুলনায় দুটি বালিশ ব্যবহার করলে চোখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী এবং প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা-তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এ প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, ঘুমানোর সময় এমন কোনো ভঙ্গি এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে ঘাড়ের শিরায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তবে বালিশ পুরোপুরি বাদ দেওয়াকে সবার জন্য গ্লুকোমা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের গ্লুকোমা রয়েছে বা চোখের চাপের সমস্যা আছে, তাদের ঘুমের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, গ্লুকোমার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে শুধু বালিশ বাদ দেওয়া বা ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করাই দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার প্রধান উপায়।
