রাকসুর জিএস আম্মারকে থামাবে কে?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও, আম্মার এসব অভিযোগের অনেকগুলোই অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হামলা, শিক্ষক লাঞ্ছনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা এবং অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে আম্মার এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ক্যাম্পাসে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আম্মারের নাম আলোচনায় আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রক্টর দপ্তরে এবং পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ ঘটনার পাশাপাশি অতীতেও আম্মারের বিরুদ্ধে শিক্ষক লাঞ্ছনা, প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগানো, বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ সংগ্রহসংক্রান্ত অভিযোগও বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার আগের ঘটনাসহ সর্বশেষ সংঘর্ষের বিষয়েও পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তিনি জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খোরশেদ আলম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীসুলভ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি অভিযোগ করেন, আম্মারের কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আইন বিভাগের শিক্ষক ড. মোর্শেদুল আলম পিটার বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি অন্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বা প্রকাশ্যে হুমকি দেন, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ ধরনের ঘটনায় আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
চাঁদাবাজির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুপারিশ ও নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আম্মারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, পাল্টা দাবি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
